চারজন ব্যক্তি যাদেরকে জীবিত কবর দেয়া হয়েছিল এবং কিভাবে তারা বেঁচে ফিরেছিল

Buried alive

চিকিৎসা বিজ্ঞানের পুরোপুরি আবিস্কারের আগে মানুষ জানতো না কিভাবে একজন মানুষকে মৃত হিসাবে গন্য করা হবে। মানুষ অনুমানের ভিত্তিতে আরেকজনকে মৃত ঘোষণা করতো। যার কারনে অনেক সময় জীবিত মানুষকেও কবর দেয়া হত। যা খুবই বেদনাদায়ক ছিল।

যুগে যুগে মানুষ অসংখ্য বই লিখেছেন এমন ঘটনার উপর নির্ভর করে। যেখানে দেখানো হয়েছে কিভাবে মানুষকে জীবিত কবর দেয়া হতো। এমনকি মানুষকে কবর দেয়ার জন্য বিশেষ ধরণের কফিন ও বানানো হতো। যাতে কেউ যদি জীবিত কবর ও দেয়া হয় তবে সে যেন অন্য মানুষকে অর্থাৎ মাটির উপরের মানুষকে কোন সংকেত দিতে পারে।

১ঃ জুতা প্রস্তুতকারী

১৮২২ সালে একজন জার্মান জুতা প্রস্তুতকারীকে কবর দেয়া হয়। তবে তাঁর মৃত্যু নিয়ে আগে থেকে বেশ বিতর্ক ছিল। কিন্তু তাঁর পরিবার থেকে বলা হয় যে তিনি মারা গেছেন, কারন তাঁর কোন সাড়াশব্দ ছিলোনা। সাবাই ভাবছিল তিনি আসলেই মারা গেছেন।

যাইহোক যথাসম্ভব নির্দিষ্ট দিনেই তাঁর লাশ দাফন করা হল। কিন্তু যখন তাঁর কবরে মাটি দেয়া হচ্ছিল তখন একজন কিছু একটা শুনতে পান নিচ থেকে। মনে হচ্ছিল কেউ একজন যেন ডাকছে।

কবর খোড়ার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এবার যত দ্রুত সম্ভব আবার মাটি সরানো শুরু করল। এবার যা দেখল সবাই তাতে অবাক। লোকটি কফিনের ভিতর নড়াচড়া করছে, তাঁর হাত গুলো উপরের দিকে। এমনকি তাঁর শরীর ও ঠাণ্ডানা।

তাকে আবার বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসা হলো। এবং ভালো ডাক্তার দিয়ে তিনদিন তাঁর চিকিৎসা চলল। তাকে বাচানোর জন্য সব রকমের চেষ্টায় করা হল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাচাতে পারলো না।

দ্বিতীয় বারের মত আবার তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হল।

২ঃ ইসি ডানবার

1915 সালে, এসি ডানবার নামে 30 বছর বয়সী দক্ষিণ ক্যারোলিনিয় এক ব্যক্তি মৃগী রোগ ভুগছিল। ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাঁর লাশ কফিনে রেখে দেন। মৃত ব্যক্তির বোন ছিল অন্য আরেক জায়গায় যার কারনে সবাই পরেরদিন লাশ দাফন করা হবে বলে রেখে দেন।

কিন্তু তাঁর বোন আসতে অনেক দেরি করে ফেলে। যার কারনে ইতিমধ্যে তাকে দাফন করে ফেলা হয়। কিন্তু ডানবারের বোন এসে জিদ ধরে বসেন তাঁর ভাইকে সে একবার হলে ও দেখবে। যার কারনে আবার ডানবারের লাশ কবর থেকে তুলতে খোড়া শুরু হয়।

কিন্তু কফিন খোলার সাথে সাথেই ডানবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে উঠে বসে এবং মুচকি হাসি দেয়। শুধু তাই নয় তিনি আরো ৪৭ বছর দিব্যি ভালো ভাবেই বেঁচে ছিলেন।

৩ঃ ফিলোমেলে জোনেট

১৮৬৭ সালে, ফিলোমলে জোনেট নামে 24 বছর বয়সী এক ফরাসী মহিলা কলেরাতে আক্রান্ত হন। কিছুদিন পরেই তাকে মৃত বলে ধারণা করা হয়েছিল। রীতি অনুসারে, একজন পুরোহিত শেষ কাজ পরিচালনা করতে আসে এবং জোনেটের দেহ একটি কফিনে রাখে। এর মাত্র 16 ঘন্টা পরে, তার লাশটি ছয় ফুট মাটির নিচে নামানো হয়।

প্রথম ঘটনার মতই কবর খনক শুনতে পান জোনেট তাঁর কফিনে জোরে আঘাত করছে এবং ডাকছে। পরে জোনেটকে আবার কবর থেকে তোলা হয়। কিন্তু তাঁর নাকের কাছে হাত দিয়ে কোন শ্বাস নেয়ার মত কিছু পাওয়া যায়না। এমনকি তাঁর কোন পালস চেক করেও কিছু পাওয়া যায়না। যাইহোক আবার তাকে মৃত ঘোষনা করা হয়। এবং দ্বিতীয় বার আবার তাকে দাফন দেয়া হয়।

৪ঃ অ্যাঞ্জেলো হায়স

১৯-বছর বয়সী ফরাসী অ্যাঞ্জেলো হাইসের ঘটনাটি সম্ভবত বিংশ শতাব্দীর জীবিত কবর দেয়ার জন্য সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯৩৭ সালে হায়েস তাঁর মোটর সাইকেল নিয়ে এক দুর্ঘটনার শিকার হোন। আর তাঁর মাথা একটি ইটের দেয়ালে বাড়ি খায়। এই ঘটনায় তাঁর মুখ এতই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে তাঁর মা-বাবাকেও তাঁর লাশ দেখতে দেয়া হয়নি। ডাক্তার কোন পালস না পেয়ে তাকে মৃত ঘোষনা করে। এর তিনদিন পরে তাঁর লাশ লাফন করা হয়।

কিন্তু যেহেতু সে দুর্ঘটনায় মারা গেছে তাই লোকাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি থেকে ময়নাতদন্তের জন্য আবার তাঁর লাশ কবর থেকে তোলা হয়।

কিন্তু ময়নাতদন্তের সময় ডাক্তার বুঝতে পারেন তাঁর শরীর পুরোপুরি ঠাণ্ডা না। এবং ছেলেটি গভীর কোমায় চলে গেছে এখন তাঁর অক্সিজেন প্রয়োজন। তাকে কয়েকটি অপারেশন করা হয়, এবং ছেলেটি কিছুদিন পর পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।

অ্যাঞ্জেলো হায়েস ভালো হবার পর রীতিমত তারকা বনে চলে যায়। অনেক মানুষ দুর-দুরান্ত থেকে শুধুমাত্র তাঁর সাথে একটু কথা বলার জন্য আসতো।

আমাদের লেখা যদি আপনার ভাল লেগে থাকে তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here