ইতিহাসের ৪০ টি অজানা তথ্য, যা আপনার কাছে মিথ্যা মনে হতে পারে

history

মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই। ইতিহাস অতীত এবং বর্তমানের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করে। আর ভবিষ্যতের পথ দেখায়। আজ আমরা আপনাদের কিছু আজানা তথ্য দিব। এখানে উল্লেখিত সব তথ্যই সত্য। আসুন দেখে নেয়া যাক।

১ঃ অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান ইব্রাহিম তার ২৮০ উপপত্নীকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। কারন তাদের মধ্যে একজন অন্য পুরুষের সাথে শুয়েছিল।

২ঃ মধ্যযুগীয় সময়ে মানুষকে “ডাইনি” উপাধি দিয়ে হত্যা করা হতো। একজন নৃতত্ত্ববিদ ধারণা করেন ৬ লক্ষের বেশি মানুষকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে।

৩ঃ মেক্সিকান জেনারেল সান্তা আন্না তাঁর একটি কাটা পায়ের জন্য বিশাল জানাজা করেছিলেন।

৪ঃ চীনে এক সন্তান নীতির কারনে প্রতি বছর কয়েক হাজার কন্যা শিশুকে গর্ভে থাকাকালীন মেরে ফেলে হয়।

৫ঃ ১৯৫০ সালের আগে মৃত সৈন্যদের মুখ থেকে দাঁত বের করে সেই দাঁত দিয়ে সাধারণ দাঁত তৈরি করা হত।

৬ঃ রোমান সম্রাট গিউস তার প্রিয় ঘোড়াকে সিনেটর করেছিলেন।

৭ঃ বরফ যুগের ব্রিটিশরা মৃতদের খুলি কাপ হিসাবে ব্যবহার করত।

৮ঃ পোপ গ্রেগরি নবম বিড়ালকে শয়তানের সাথে তুলনা করার পর পুরো ইউরোপ জুড়ে সব বিড়ালকে মেরে ফেলা হয়েছিলো।

৯ঃ আর বিড়ালকে হঠাৎ মেরে ফেলার কারনে কিছু নতুন রোগের বিস্তার ঘটে। কারণ ইঁদুর মুক্ত জীবনযাপন করতো। এই রোগগুলির মধ্যে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক বুবোনিক প্লেগ যা ১০০ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছিল।

১০ঃ মেক্সিকোতে অ্যাজটেক সম্প্রদায়ের লোকেরা দেবতাদের খুশি করার জন্য মানুষকে উৎসর্গ করতো। ১৪৮৭ সালে, টেনোচিটলান মন্দিরের উৎসর্গের সময় ২০,০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।

১১ঃ মায়ান জাতিরাও মানুষকে উৎসর্গ করতো অ্যাজটেকদের মতো। সবচেয়ে সাধারণ ঘটনার একটি ছিলো জীবিত মানুষের বুক থেকে হৃদয়কে চিরে বের করা।

১২ঃ উপনিবেশ আমেরিকাতে মহিলারা বাচ্চা জন্ম দেয়ার সময় বেদনানাশক দেয়া হতো না। বিশ্বাস করা হতো এটা ঈশ্বরের পক্ষ থেকে একটা শাস্তি। কারন মহিলারা বেহেশতে নিষিদ্ধ ফল খেয়েছিল।

১৩ঃ প্রাচীন মিশরে, দাসদের শরীরে মধু মাখিয়ে দেয়া হতো, যাতে তারা পালিয়ে বেশি দূর না যেতে পারে।

১৪ঃ মিসরের ফেরাউনরা মারা যাবার পর তাদেরকে পিরামিডের মধ্যে মমি করে রাখা হতো। এবং সাথে তাঁর স্ত্রীরা, পোষা প্রাণী, এবং চাকরদেরও পিরামিডের মধ্যে রেখে রেখে দেওয়া হতো।

১৫ঃ রোমানরা মানুষের প্রস্রাবকে মাউথওয়াশ হিসাবে ব্যবহার করত।

১৬ঃ ১৭৮৮ সালে অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনী নিজেদের মধ্যেই আক্রমণ করে এবং ১০ হাজার জন প্রাণ হারিয়েছিল।

১৭ঃ পোপ হওয়ার আগে পিউস টু দ্য টেল অফ টু লাভ নামে একটি জনপ্রিয় প্রেমমূলক বই লিখেন।

১৮ঃ 1৮ শতকে মানুষকে প্রায়ই জীবিত কবর দেওয়া হত। যার ফলে আবিষ্কারকরা সুরক্ষা কফিন তৈরি করেছিলেন। যা “মৃতদের” যদি তারা বেঁচে থাকত তবে মাটির উপরে সতর্ক করতে পারত।

ইতিহাস
কফিন তৈরির বিজ্ঞাপনের একটি নমুনা

১৯ঃ গৃহযুদ্ধে প্রায় ৭৫০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল।যা সেই সময় আমেরিকার জনসংখ্যার ২.৫% এর বেশি ছিল।

২০ঃ মধ্যযুগীয় সময়ে অপরাধীকে প্রায়শই কঠিন বিচারের মুখোমুখি করা হতো, যেখানে তাদের বাহু ফুটন্ত পানিতে ফেলা হত। যদি তাদের বাহুটি অক্ষত অবস্থায় থাকে, তবে বিশ্বাস করা হত যে ঈশ্বর তাকে রক্ষা করেছে।

২১ঃ মধ্যযুগীয় সময়ে প্রাণীদের বিচার করা হতো। এবং অপরাধের জন্য নিয়মিত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত।

২২ঃ ১৮৭০ এর দশকে পল পটের কমিউনিস্ট সরকার হাজার হাজার কম্বোডিয়ান বাচ্চাকে ব্রেইন ওয়াশ করেছিল যারা গণহত্যা ও অন্যান্য নির্যাতন করেছিল পরে।

২৩ঃ জাপানী সামুরাইরা যখন তাদের ধরা পড়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়তেন তখন নিজেরাই নিজেদের গলা কেটে হত্যা করতেন।

২৪ঃ নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে হলোকাস্টের সময় নাৎসিরা ১৫-২০ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছিল বা বন্দী করেছিল। এর আগে বিশ্বাস করা তার চেয়ে অনেক বেশি এই সংখ্যাটি

২৫ঃ ১৯২৯-১৯৫৩ সালে ইউএসএসআরের একনায়ক স্বৈরশাসক জোসেফ স্টালিন ২০-৩০ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হয়।

২৬ঃ ১৫২৫ এবং ১৮৬৬ সালের মধ্যে 12.5 মিলিয়ন আফ্রিকানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ক্যারিবিয়ান এবং দক্ষিণ আমেরিকাতে অপহরণ করে দাস হিসাবে বিক্রি করা হয়েছিল।

২৭ঃ ইউরোপ সৃষ্টি হবার পরে দেখা গেল যে আমেরিকাতে আসল আমেরিকানদের সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে গেলো। যেখানে ১৫০০ সালে ১২ মিলিয়ন ছিল, ১৯০০ সালে তা এসে দাঁড়াল ২৩৭,০০০।

২৮ঃ ১৯১৭ সালে, প্রথম জন্মনিয়ন্ত্রণ ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার জন্য মার্গারেট স্যাঙ্গারের এক মাসের জন্য জেল হয়েছিল।

২৯ঃ রেনেসাঁর সময় ইতালির ভেনিসে একটি ঘটনা ঘটেছিল যেখানে ধর্ষককে ছয় মাস জেল খাটা, জরিমানা দেওয়া বা সেই মেয়ের সাথে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে বিয়ে বেছে নিয়েছিল।

৩০ঃ চেয়ারম্যান মাও সেতুং ১৯৫৮–১৯৬২ সাল পর্যন্ত চীনের “গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড” চলাকালীন ৪৫ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছিলেন।

৩১ঃ পিটার দ্য গ্রেট তার স্ত্রীর প্রেমিককে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন। তারপরে তাকে বাধ্য করেছিলেন তাঁর শয়নকক্ষের মদের জারে তার প্রেমিকের মাথা রাখতে।

৩২ঃ চেঙ্গিস খান এশিয়া ও ইউরোপ জুড়ে ৪০ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছিল।

৩৩ঃ ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দীতে ধনী ইউরোপীয়রা লাশ ভক্ষণ করতো। তারা ভাবতো এটি তাদের অসুস্থতা নিরাময় করবে। এমনকি তারা মিশরীয় মমিদের দেহাবশেষও খেয়েছিল

৩৪ঃ ১৫ তম শতাব্দীতে রোমানিয়ান শাসক ভ্লাদ ইমপালার ডানুব নদীর তীরে ২০,০০০ অটোমান তুর্কিকে মেরেছিলেন।

৩৫ঃ আফ্রিকান-আমেরিকান পুরুষদের ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত মরমন চার্চের সমান সদস্য হিসাবে গণ্য করা হয়নি।

৩৬ঃ প্রথমদিকে রোমে একজন বাবা আইনানুগভাবে তাঁর পরিবারের যে কাউকে হত্যা করতে পারতেন।

৩৭ঃ শিশু হত্যাকারী এবং ধর্ষক পেড্রো লোপেজ, “অ্যান্ডিসের দানব,” নামে পরিচিত। ১৯৮৩ সালে ১১০ জন যুবতী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল (যদিও তিনি ৩০০ হত্যা করার কথা স্বীকার করেছিলেন)।

৩৮ঃ ইকুয়েডরের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের পরে ১৯৯৮ সালে লোপেজ মুক্তি পেয়েছিলেন। তবে তাঁর হদিস আর জানা যায়নি।

৩৯ঃ ১৯৬০ সালের আগে সিগারেটের গায়ে লেখা থাকতো ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

৪০ঃ সোভিয়েত জীববিজ্ঞানী ইলিয়া ইভানোভিচ ইভানভ মানব শুক্রাণু দিয়ে শিম্পাঞ্জি জন্মানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু “হিউম্যানজি” তৈরি করতে ব্যর্থ হন।

সুত্রঃ বাজফিড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here