পৃথিবীর সর্বকালের সেরা স্মার্ট পুরুষ যিনি অফিসের কেরানি হিসাবেই পরিচিত

উইলিয়াম জেমস সিডিস ছিলেন বিশ্বের সর্বকালের সেরা স্মার্ট পুরুষ। যার আইকিউ ছিলো আলবার্ট আইনস্টাইনের থেকেও ৫০ বা ১০০ বেশি। কিন্তু তাঁর বুদ্ধিমত্তা শেষ পর্যন্ত তাকে আর রক্ষা করতে পারেনি। পৃথিবীকে কিছু না দিয়েই তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। চলুন আজ তাঁর ইতিহাস জানবো আমরা।

পৃথিবীর সর্বকালের সেরা স্মার্ট ব্যক্তিটির জন্ম ১৮৯৮ সালে আমেরিকায়। তাঁর নাম হলো উইলিয়াম জেমস সিডিস এবং তাঁর আইকিউ ছিলো ২৫০ থেকে ৩০০ এর মধ্যে। যা সাধারণত অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ১০০ হয় ।

উইলিয়াম জেমস সিডিসের মা-বাবার নাম হলো বরিস এবং সারাহ। তাঁর মা-বাবাও অনেক বুদ্ধিমান ছিলেন। বরিস ছিলেন একজন খ্যাতিমান মনস্তত্ত্ববিদ, এবং সারাহ একজন চিকিৎসক ছিলেন।

boris sidis
উইলিয়ামের বাবা বরিস সিডিস

মা-বাবা দুজনেই দারুণ খুশি ছিলেন তাদের সন্তানকে নিয়ে। ছোট বেলায় তারা তাদের সন্তানের জন্য ম্যাপ, বই কিনে দিতো যাতে করে সে কিছু শিখতে পারে। কিন্তু তারা তখন ও জানতো না তাদের সন্তানের বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে।

যখন উইলিয়াম জেমসের বয়স মাত্র ১৮ মাস তখনই সে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা পড়তে পারতো। আর ঠিক ৬ বছর বয়সে সে সাতটির বেশি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতো। যার মধ্যে ছিলো ইংরেজি, ল্যাতিন, ফরাসি, জার্মান, রাশিয়ান, হিব্রু এবং তুরস্কের ভাষা।

কিন্তু সবচেয়ে আজব জিনিসটি জেনে অবাক হবেক যে তিনি তাঁর ছোট বেলাতেই একটি নতুন ভাষা তৈরি করেন(যদিও পরে তিনি এই ভাষাটি ব্যবহার করেছেন কিনা এ নিয়ে বেশ সন্দেহ আছে)। উচ্চাভিলাষী এই যুবক কবিতা, একটি উপন্যাস এবং এমনকি একটি সংবিধানও লিখেছিলেন ইউটোপিয়ার জন্য।

সিডিস ৯ বছর বয়সেই আমেরিকায় বিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি তে পড়ার সুযোগ পান। তবে ১১ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হয়।

cambridge massachusetts
১৯১০ সালের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

১৯১০ সালে ছাত্র থাকাকালীন তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গণিত ক্লাবে জটিল একটি বিষয় নিয়ে লেকচার দেন। যাইহোক তিনি ১৯১৪ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ভার্সিটির গন্ডী পার করেন।

উইলিয়াম জেমস সিডিসের বুদ্ধিমত্তাঃ

উইলিয়াম জেমস সিডিস এর বুদ্ধিমত্তা এতই বেশি ছিলো যে তাকে আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে তুলনা করা হয়। উইলিয়াম সিডিসের আইকিউ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অনেক জল্পনা-কল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর আইকিউ পরীক্ষার কোনও রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাই আধুনিক সময়ের ইতিহাসবিদরা নতুন করে আইকিউ পরিমাপ করেন।

আইকিউ ১০০ কে ধরা হয় গড় হিসাবে। আর ৭০ এর নিচে হলে তাকে খারাপ হিসাবে ধরা হয়। এবং ১৩০ এর উপর ধরা হয় অনেক বুদ্ধিমান বা অনেক বেশি হিসাবে।

পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন 160, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি 180 নিয়ে এবং আইজাক নিউটন 190 আইকিউ ছিলো।

আর উইলিয়াম জেমস সিডিসের আইকিউ ছিলো আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০। যা এসব বিখাত ব্যক্তিদের থেকে ১০০র থেকেও বেশি। তাঁর আইকিউ এতই বেশি ছিলো যা গড়পড়তা তিনটা সাধরন মানুষের সমান।

বিশাল আইকিউ থাকা সত্ত্বেও তিনি এই পৃথিবীর মানুষের সাথে তাল মিলাতে পারতেন না। বিশেষ করে অনেকেই তাকে বুঝতে পারেননি।

তিনি ১৬ বছর বয়সে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি শেষ করার পর একবার বলেছিলেন “আমি নিখুঁত জীবনযাপন করতে চাই। আর নিখুঁত জীবনযাপনের একমাত্র উপায় হলো একা নির্জনে জীবনযাপন করা। আমি সবসময় ভিড়ের মাঝে যেতে ঘৃণা করি। “

অল্প কিছুদিনের জন্য তিনি টেক্সাসের হিউস্টনের রাইস ইনস্টিটিউটে গণিত শিক্ষকতা করেন। তবে তিনি বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেননি। কারন তিনি তার অনেক শিক্ষার্থীর চেয়ে কম বয়সী ছিলেন।

জীবনের কঠিন সময়ঃ

উইলিয়াম সিডিসকে নিয়ে প্রথেম বিতর্ক সৃষ্টি হয় ১৯১৯ সালে বোস্টন মে দিবসের সমাজতান্ত্রিক মার্চে যখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিছু না করার পর ও পুলিশ অফিসারকে লাঞ্ছনা এবং লুটপাটের অভিযোগে তাকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই মামলা থেকে মুক্ত হবার পর তিনি একদম নির্জনে চলে যান। তিনি একদম সাধারন একটা অ্যাকাউন্টিংয়ের চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু তিনি তাঁর পরিচয় গোপন রাখতেন। তারপর ও যদি কেউ তাঁর সম্পর্কে জানতে পারতেন সাথে সাথে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতেন।

সিডিস ১৯৩৭ সাল অবধি সফলতার সাথে আলোচনার বাইরেই ছিলেন। তারপর নিউইয়র্ক পত্রিকা একজন মহিলা সাংবাদিককে তার সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য এবং কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য পাঠায়। এবং নিউইয়র্ক পত্রিকাতে লেখার পর আবার তিনি সবার নজরে আসেন অনেক দিন পর।

তিনি নিউইয়র্ক পত্রিকার নামে মামলা করে বসেন তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মামলাতে হেরে যান।

মামলায় হেরে যাবার পর তিনি আর বেশিদিন বাচেননি। 1944 সালে, তিনি 46 বছর বয়সে সেরিব্রাল হেমারেজে মারা যান।

পরে তাঁর বাড়ির মালিক তাঁর লাশ দেখতে পান। আধুনিক ইতিহাসে পরিচিত সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি পৃথিবীকে কিছুই দিয়ে যেতে পারেননি। শুধু নিজেকে স্বীকৃত অফিসের কেরানি হিসাবে রেখে গেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here